বিপ্লবের দলে ফেরার ‘গুজব’ ওড়ালেন অর্পিতা

নিজস্ব সংবাদদাতা,

0

বালুরঘাটঃ প্রাক্তন তৃণমূল তথা অধুনা বিজেপি নেতা বিপ্লব মিত্র কি তৃণমূলে ফিরছেন? দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে এমন জল্পনা ছড়াতেই তা ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। এমনকি গত বুধবার রাতে ফেসবুকে নিজের ওয়ালে এনিয়ে লম্বা পোস্টও করেছেন অর্পিতা। অর্পিতার দাবি, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এইসব ‘ফেক নিউজ’ ছড়িয়ে দলের কর্মীদের বিভ্রান্ত করে দলের মধ্যে কোন্দল তৈরি করতে চাইছে। বিজেপির অবশ্য দাবি, তারা এমন খবর ছড়ায় নি।
গত লোকসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন বিপ্লব মিত্র। সেই সময় ‘দক্ষিণ দিনাজপুরে সিএম নয়, বিএম শেষ কথা’ বলে ঘোষণা করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা করে দল ছেড়েছিলেন বিপ্লব। দিল্লি গিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, গঙ্গারামপুর পুরসভার কয়েকজন কাউন্সিলরদের নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন বিপ্লব। বিপ্লবের যোগদানের পরেই মমতা নাট্যকর্মী অর্পিতাকে জেলা সভাপতি নিয়োগ করেন। অর্পিতা জেলা সভাপতি হতেই একে একে জেলা পরিষদ ও পুরসভা পুনরায় দখল করে তৃণমূল। শুধু জেলা পরিষদ বা পুরসভা ফিরিয়ে আনাই নয়, জেলার সংগঠনের খোলনলচে পাল্টে ফেলেন অর্পিতা। সাংগঠনিক দায়িত্ব নতুনভাবে বন্টন করে তৃণমূলের প্রাচীন রোগ ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে’ জেলা থেকে কার্যত মুছে দেয় অর্পিতা। দায়িত্ব পাবার অল্প সময়ের মধ্যে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া জেলা পরিষদ, পুরসভা দখল করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেওয়ার সাংগঠনিক দক্ষতা দেখে অর্পিতার উপরে আস্থা বেড়ে যায় তৃণমূল সুপ্রিমোর। গত মার্চ মাসে জেলা সফরে এসে বুনিয়াদপুরের মঞ্চ থেকে সেকথা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়ে মমতা অর্পিতার হাতে দলের সাংগঠনিক রাশ দিয়ে বিপ্লবকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “দলে গদ্দারের কোনও জায়গা নেই।” অর্পিতার এই সাংগঠনিক দক্ষতার পুরস্কার হিসেবে তাকে রাজ্যসভার সাংসদও করেন মমতা। রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করে মমতা কার্যত বুঝিয়ে দেন, জেলায় অর্পিতাই মমতার স্নেহধন্যা। এই অবস্থায় সম্প্রতি বিপ্লবের দলে ফেরার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই দলের কর্মীদের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সেই বিভ্রান্তি দূর করতে অর্পিতা ফেসবুক পোস্ট করে পরিস্কার জানিয়ে দিলেন, “দলে বিশ্বাসঘাতকদের জায়গা নেই। বিশ্বাসঘাতক বিজেপিতেই থাকুক।” পাশাপাশি অর্পিতার অভিযোগ, জেলার তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল তৈরি করতেই বিজেপি পরিকল্পনা করে এই ধরনের ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের আলোচনা, বিজেপিতে যোগ দিয়ে জেলা পরিষদ, পুরসভা বা কোনও কাউন্সিলরকেও ধরে রাখতে পারেননি বিপ্লব। রাজনৈতিক ময়দানেও তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। ফলে বিজেপিতে গুরুত্ব হারিয়েছেন বিপ্লব। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য কমিটির ঘোষণা হলেও শিকে ছেঁড়েনি বিপ্লবের। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নেমে জেলাবাসীকে সাহায্যও করতে দেখা যায়নি বিপ্লবকে। ফলে রাজনীতিতে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বিপ্লব। এই অবস্থায় বিজেপিতে নিজের ‘ওজন’ বোঝাতে তৃণমূলে ফেরার ‘গল্প’ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বিপ্লব শিবির নিয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি। পাশাপাশি, দলে ফেরার ‘গুজবে’ তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দলের ভারসাম্য নষ্ট করার উদ্দেশে এমন ‘গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে বলে দলের নেতাদের একাংশের দাবি। এনিয়ে বিপ্লবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাই তার প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিপ্লবের প্রতিক্রিয়া পেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করে দেওয়া হবে। তবে বিজেপির জেলা সভাপতি বিনয় বর্মণ বলেন, “আমরা কোনও খবর ছড়াইনি। ছড়াবোই বা কেন? কারণ, উনি(বিপ্লব) আমাদের দলেই আছেন। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরবেন এমন কোনও খবর আমাদের কাছে নেই।”

Leave A Reply

Your email address will not be published.