তৃণমূলের মহিলা নেত্রীকে মারধর করার অভিযোগ উঠল সোনা পালের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিনিধি

0

হরিরামপুরঃ হরিরামপুরের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূলের মহিলা নেত্রী মধুমিতা রায়ের বাড়িতে ভাঙচুর করে তাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের কার্যকরি জেলা সভাপতি সোনা পালের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হামলার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। মধুমিতার অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতির দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেই সোনা দলবল নিয়ে তার বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এই দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে হরিরামপুরের বিতর্কিত বিডিও শ্রীমান বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। যদিও সোনা ও শ্রীমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, একদা বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ মধুমিতা রায় নির্বাচনে দাঁড়িয়ে সোনা পালের মাকে ভোটে হারিয়ে হরিরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হন। পরে বিপ্লব দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এবংং সোনা তৃণমূলে ফিরে এসে জেলার কার্যকরি সভাপতি ও জেলা পরিষদের মেন্টরের পদে বসেন। ক্ষমতায় বসেই নিজের এলাকা হরিরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির রাশ নিজের হাতে নেয় সোনা। মধুমিতার অভিযোগ, দিনের পর দিন তাকে তোয়াক্কা না করেই সোনা বিডিও শ্রীমানকে নিয়ে অগাধ দুর্নীতি করে চলেছেন। তিনি প্রতিবাদ করায় এদিন পরিকল্পনা করে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে তার অভিযোগ। মধুমিতার দাবি, এদিন প্রায় ১৬-১৭ জন যুবক হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, বাঁশ নিয়ে তার বাড়িতে চড়াও হয়। তাকে বেধরক মারধর করা হয়। এমনকি তার আট বছরের মেয়েকেও পেটানো হয়। বাড়িতে অবাধে ভাঙচুর চালিয়ে কয়েক ভরি সোনার গয়নাও লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীরা। হামলার ঘটনার ভিডিও তুলে ফেসবুকেও আপলোড করা হয়েছে। সেই ভিডিও ইতিমধ্যেও ভাইরাল হয়েছে। মধুমিতা বলেন, “দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছিলাম। সোনা আর বিডিও অগাধ দুর্নীতি করছিল। তার প্রতিবাদ করায় আজ আমার উপরে হামলা করা হল। গয়না লুটপাট করে আমাকে, আমার মেয়েকে মারধর করল ওরা। সোনা লোক পাঠিয়ে এইসব করল। আমি এর বিচার চাই। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন ওকে যেন উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়। তানাহলে আমি রাস্তায় ধর্নায় বসব।” এদিকে মধুমিতার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সোনা। তিনি বলেন, “আমি বালুরঘাটে আছি। আমি কিভাবে হামলা করব? উনি বিপ্লব মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। ওনার বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত সমিতির সব সদস্য লিখিত অভিযোগ করছে। ও আমাদের দলেই আর নেই। এইসব মিথ্যে অভিযোগ তুলে রাজনীতির বাজার গরম করতে চাইছে।” বিডিও শ্রীমান বলেন, “ওনাকে আমি ফোন করেছিলাম। কিন্তু উনি ফোন ধরেননি। দুর্নীতির অভিযোগ কিছু থাকলে আমায় লিখিতভাবে জানাক।” গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপ দাস বলেন, “খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত শুরু করা হয়েছে।” দলের মহিলা নেত্রীর উপরে হামলার এই অভিযোগ উঠতেই স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.