বালুরঘাট বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী অশোক লাহিড়ী বালুরঘাটে পা রাখলেন আজ

0

সুমন ভৌমিক, বালুরঘাট:- এই বাংলায় আমার জন্ম হলেও কর্ম বাইরে, যদিও বাংলা আমায় দিয়েছে অনেক কিন্তু আমিই তাকে ফিরিয়ে দিতে পারিনি। আজ যখন দেশের বৃহৎত্তর দল আমায় সুযোগ দিল তখন আমার তরফে বাংলাকে ফিরিয়ে দেবার তাগিদেই এই রাজনীতির আংগীনায় পা রাখা। আজ বালুরঘাট বিধানসভা আসনের জন্য প্রার্থী পদ পেয়ে বালুরঘাট শহরে পা দিয়ে এই প্রথম বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রেসিডেন্সির ছাত্র অশোক লাহিড়ী তার রাজনীতিতে আসা নিয়ে এভাবেই মুখ খুললেন।
কথায় আছে মংগলে উষা বুধে পা যথা ইচ্ছে তথা যা,দেশের ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থভান্ডার সহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব সামালানো বিশিষ্ট অর্থবিদ সেই প্রবাদকে মাথায় রেখে তার কর্ম জীবনকে দূরে সরিয়ে রেখে ভোটের লড়াইতে নামতে বালুরঘাটে বুধবারেই পা দিলেন কিনা জানা না থাকলেও তিনি যে প্রথম দিন এসেই দলের নেতা নেত্রী কর্মী সমর্থক থেকে সাধারন মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তা তার প্রথম চায়ে পে চর্চার আসর দেখলেই কারো কোন বুঝে নিতে অসুবিধে হবার নয়। এবং তাতে তিনি যে নিজেও বেশ আপ্লুত তা তার সংবাদ মধ্যমের সাথে খোলাখুলি কথাতে পরিষ্কার।
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে ভাবে দলের প্রার্থী চয়ন নিয়ে দলের কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভের ফলে দলকে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছিল। সেক্ষেত্রে এই বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রে জেলার বিজেপির অনেক নেতাই প্রার্থী হিসেবে দাড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব তাদের পাশকাটিয়ে সুদুর দিল্লি থেকে একজন অরাজনৈতিক ব্যাক্তিকে এনে এই আসনে দাড় করিয়ে দেবে। তা নিয়ে যাতে ফের অশান্তি না ছড়ায় তার দেখার জন্য আগাম রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু বালুরঘাটে গত রবিবারে এসে জেলা নেতৃত্বের সাথে বৈঠক সেরে গেছেন। দেশের এক ও দুই নম্বরের কাছের লোককে বিক্ষোভের মুখে পড়লে উপর মহলে ভুল বার্তা যাবে সে কথাও জেলা নেতৃত্বকে স্মরন করিয়ে দিয়ে যান সায়ন্তন বসু। আর তারপরেই দেখা গেল মংগলবার সকালে দিল্লি থেকে এই কেন্দ্র থেকে অশোক লাহিড়ীর নাম ঘোষনা করে দিল দল। আর আজ বুধবার সকালেই তিনি বালুরঘাট শহরে পা রাখতেই দলের সাংসদ থেকে নেতা কর্মী সমর্থকরা তাকে ফুলের মালায় বরন করে আপন করে নিলেন। যদিও এর আগে দল তাকে আলিপুরদুয়ারে প্রার্থী করেছিল। কিন্তু তারপর দলের কর্মীদের ক্ষোভ বিক্ষোভের জেরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় দল। যদিও পরে দলের তরফে রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন ভোটার লিস্টে নাম না থাকার টেকনিক্যাল ভুলের কারনে তাকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। এর মধ্যে ক্ষোভ বিক্ষোভ ছিল না বলে তিনি জানান । যদিও দলের অন্দর মহলে গুঞ্জন দল সম্ভবত আগেই আচ করেছিল আলিপুরদুয়ারে বহিরাগত কাউকে চাপিয়ে দিলে এরকম হতে পারে। তাই সুকৌশলে বালুরঘাট আসনটি ফাকা রেখে জেলার পাচটি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেছিল দল। আসলে লোকসভা ভোটের নিরিখে আলিপুরদুয়ার ও বালুরঘাট আসন দুটিতেই দল বিরোধীদের চেয়ে অনেক ভোটে লিড নিয়েছিল। তাই সেফেস্ট সিট থেকেই দল অশোক লাহিড়ীকে জিতিয়ে আনার জায়গা বেছে রেখেছিল। দলের ভেতর আরও গুঞ্জন দল রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ও অশোক বাবু জিতলে তিনিই হবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।

যদিও আজ বালুরঘাট শহরে পা রেখেই শহরের প্রাচীন চকভবানী কালিবাড়িতে তার জয়ের ব্যাপারে পুজো দিয়ে মংগল কামনা করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.